যেখানেই ধুলাবালি সেখানেই মাস্ক

কৃষিবিদ মো. হামিদুল ইসলাম ।।

যেখানেই ধুলাবালি সেখানেই মাস্ক পরুন। ধুলাবালির সাথে বিষাক্ত ধোঁয়াকণা থাকতে পারে ; থাকতে পারে মোল্ড স্পোরস, ফাংগাল হাইফি, পেট ডেন্ডার, মাইটসের মল, কম্পোস্ট পার্টিকেল, পোলেন গ্রেইন ইত্যাদি। এসব অতিসূক্ষ্ম কণা (ফাইন পার্টিকেল ম্যাটার <১০ মাইক্রণ) এতোটায় ছোট যে খালি চোখে দেখা যায় না, বাতাসে এয়ারবোরন প্যাথোজেন হিসাবে ভেসে বেড়ায়। তাই এসমস্ত দুষ্টকণার প্রভাব যেখানেই বেশি বলে মনে হবে সেখানেই মাস্ক পরতে হবে। শুধুমাত্র মোল্ড স্পোরস এর কথাই যদি ধরি তবে Penn State Extension এর এক তথ্যমতে, "Mold spores are so minuscule that about 250,000 of them can fit on the head of a pin so a person could easily breathe in millions of them in just a few minutes." এসব স্পোর স্বাস্থ্যসমস্যায় কী কী উপসর্গ সৃষ্টি করে তার ব্যাখ্যায় ঐ রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, "Once they are inhaled, these tiny mold spores easily move into the lower part of the lungs causing symptoms to appear within four to six hours as like shortness of breathe ; tightness in the chest ; fatigue ; a dry, unproductive cough ; muscle ache, headache, chills and fever." ঘরের মধ্যে মাইটসের মলও স্বাস্থ্যসমস্যায় এক চিরশত্রু। তাই ঘরদোর ঝাড়ুতেও মাস্ক পরুন। শীতের কুয়াশাতেও মাস্ক পরুন। অতিসূক্ষ্ম তুষারকণা নাকের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে যাতে শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি করতে না পারে সেজন্যও আপনি মাস্ক পরতে পারেন। পৌরবর্জ্যের দুর্গন্ধ থেকেও মাস্ক আপনাকে মুক্তি দিতে পারে। দুর্গন্ধের কারণে বমি কিংবা বমিবমিভাব, নার্ভাস সিস্টেমে ব্যাঘাত, খাদ্যে অরুচিসহ আরো নানারকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই মাস্ক পরার ক্ষেত্রে ছোট বড় বৃদ্ধের কোন বাদ বিচার নেই। সকল সচেতন মানুষেরই উচিত ধুলাবালিযুক্ত পরিবেশে কিংবা ধুলাবালিযুক্ত ঝুকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্রে মাস্ক পরা। এখন প্রশ্ন হলো- আপনি কেন মাস্ক পরবেন ? ধুলাবালিতে মাস্ক না পরলে আপনার কী কী স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে ? হ্যাঁ, মাস্ক পরতে হবে আপনার নিজের সুস্বাস্থ্যকে বিবেচনায় রেখেই, স্বাস্থ্যসমস্যা থেকে স্বস্তি পেতে অর্থাৎ ধুলাবালির কারণে সৃষ্ট এ্যাকুট এন্ড ক্রণিক হেলথ ডিজঅর্ডার অ্যাভয়েড করার এক উত্তম উপায় হলো মাস্ক ব্যবহার করা। আপনি হয়তো মাস্ক পরার এই ছোটখাটো অভ্যাসটাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই পারেন। নাক সিটকাতে পারেন - এ আর এমনকি ! সামান্য একটা মাস্কই তো। হ্যাঁ, এই সামান্য মাস্ক বাতাসে ভেসে বেড়ানো দুষ্ট প্যাথোজেনগুলো ফিল্ট্রেশন করে আপনাকে রাখবে স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত। প্যাথোজেনের একটি বড় ধর্ম হলো দুর্বলকে আক্রমণ করা। যেমনটা আমরা অনেকসময় বলে থাকি যে- সবলের উপর দুর্বলের অত্যাচার আর কি ! অনেকটা ঐ রকমই। কারণ, দুর্বল প্রকৃতির মানুষের শরীরে ইম্যুনো এ্যাবিলিটি খুবই কম থাকে- ফলে প্যাথোজেনের আক্রমণ সহজ হয়। আবার, প্যাথোজেন বডিতে পেনিট্রেশনের মাধ্যমে প্রবেশ করে। শরীরের ক্ষত কিংবা কাটাছেঁড়া, ইনজেকশন বা তিলক কাটা (ট্যাটু) 'র মাধ্যমেও প্রবেশ করে। শরীরে প্যাথোজেন প্রবেশের আর একটি সহজ মাধ্যম হলো - আমাদের নাক কিংবা শ্বাসতন্ত্র। শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে প্যাথোজেন অর্থাৎ ধুলাবালি, মোল্ডস, পোলেন গ্রেইনসহ অন্যান্য দুষ্টকণা প্রথমত ফুসফুসে প্রবেশ করে। অতঃপর অ্যালভিওলাই ও টিনি এয়ারস্যাকের মাধ্যমে রক্তরসে প্রবেশ করে। কিন্তু আপনি যদি মাস্ক ব্যবহারে অভ্যস্হ হোন, তবে এই সমস্ত ধুলাবালি সহজেই প্রতিরোধ করতে পারেন। আমাদের মনে রাখতে হবে, যেখানেই ধুলাবালি সেখানেই মাস্ক পরতে হবে। ধুলাবালিতে মাস্ক ব্যবহার না করলে বিভিন্ন প্রকার স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন- ধুলাবালি ও ধোঁয়ার কারণে অ্যাজমা, এলার্জি, একনি, সর্দি, কাশি, কফ, নাক কান গলা ও শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ, সিওপিডি (ক্রণিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ), এডেমা, পালমোনারি এডেমা, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের প্রদাহ, আলসার, ক্যানসার এবং ফুসফুস হতে টিনি এয়ারস্যাকের মাধ্যমে রক্তরসে পরিবাহিত হয়ে কিডনি ড্যামেজ, হার্ট ফেইল্যুর, কোমা, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আমরা অনেক সময় ব্রংকাইটিস ও নিউমোনিয়াকে একই মনে করি। এখানে ব্রংকাইটিস ও নিউমোনিয়ার ধারণাটা পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমরা যদি একটি পাতাকে শ্বাসতন্ত্রের সাথে তুলনা করি তবে এর বোটা বা পেটিওলকে ব্রংকিউল এবং পেটিওল বাদে সমস্ত পাতাকে লাং বা ফুসফুসের সাথে তুলনা করতে পারি। পাতার বোটায় ইনফেকশন হলে ব্রংকিউলাইটিস এবং বোটা বাদে সমস্ত পাতায় ইনফেকশন হলে তাকে নিউমোনিয়া বলে। ধুলাবালি এবং ধোঁয়া স্বাস্থ্যসমস্য জন্য অনেকটা অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। শুধুমাত্র ধুলাবালি ও ধোঁয়ার কারণেই এইসব স্বাস্থ্যসমস্যা (হেলথ ডিজঅর্ডার) দেখা দেয় তা জোর দিয়ে বলবারও কোন অবকাশ নেই। ধুলাবালি ও ধোঁয়া নিজেই প্যাথোজেন হিসেবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তাছাড়া অন্যান্য এয়ারবোর্ন প্যাথোজেনের উপস্হিতি, প্রকৃতি, সামষ্টিক পরিমাণ, পরিবেশ, হোস্টের উপস্হিতি, দূষণে সময় ব্যয় (হাউ লং স্টে), সর্বোপরি হোস্টের ইম্যুনি সিস্টেমের উপর নির্ভর করে এই সমস্ত রোগের সক্রিয়তা ও ব্যাপকতা। মোটকথা হলো এই যে, ধুলাবালিযুক্ত সকল পরিবেশে ও কর্মক্ষেত্রে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সকলের মাস্ক পরা উচিত। Published in : Weekly Sob Khobor 2 June 2016

Leave a Comment