বারসিকে মাস্ক ব্রিফিং

খন্দকার মিজানুর রহমান টিপু ॥
সম্প্রতি মানিকগঞ্জের বারসিক (বাংলাদেশ রিসোর্সেস সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ) অফিসে মাস্ক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। বারসিকের মানিকগঞ্জ শাখার ম্যানেজার বিমল রায়ের সাথে মাস্ক বিফিং করেন মাস্ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হামিদুল ইসলাম। এসময় উপস্হিত ছিলেন ‘সাপ্তাহিক সময়ের সংবাদ’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহাবুব আলম জুয়েল, বারসিকের এগ্রিকালচার সাপোর্ট অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জিল্লুর রহমান ও মিডিয়া এন্ড ক্যাম্পেইন অফিসার সুকুফে ইসলাম।

মাস্ক ব্রিফিং এর শুরুতে ‘সাপ্তাহিক সময়ের সংবাদ’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহাবুব আলম জুয়েল মাস্ক সচেতনতা বিষয়ে বলেন, স্বাস্থ্য সচেতনতায় মাস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। এখন আমি নিজে মাস্ক পরি। শুধু তাই নয়, আমি নিজেও মাস্ক পরার জন্য সকলকে সচেতন করছি। ধুলাবালি থেকে রক্ষা পেতে সকল বয়সের মানুষের মাস্ক পরা উচিত। শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য মাস্ক পরা আরো জরুরি।
মাস্কের মূল আলোচনায় মাস্ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হামিদুল ইসলাম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক রিপোর্টের সূত্র ধরে জানান, বায়ুদূষণ এমন একপর্যায়ে পৌঁচেছে যে শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই প্রতিবছর ১৫ হাজার মানুষ ধুলাবালিজনিত রোগে মারা যায়। ধুলাবালি এবং ধোঁয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য আজ এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দূষণ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা। জনসচেতনতা ছাড়া সরকার বা কোন সংস্থার একক ভূমিকায় বায়ুদূষণ রোধ করা সম্ভব নয়। উন্নত সড়ক ও যানবাহনের কারণে জাপানে আগ্নেয়গিরি কিংবা অধিক জ্বালানি ব্যবহার করা স্বত্বেও সেখানে বায়ুদূষণ চরম মাত্রায় পৌঁছেনি। ধুলাবালি ও ধোঁয়ার কারণে অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের স্বাস্থ্যসমস্যা (হেলথ ডিজঅর্ডার) বেড়ে যায় কয়েকগুন। তাছাড়া ধুলাবালি ও ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট দূষক কণার (পার্টিকেল ম্যাটার >২.৫ূ১০ মাইক্রণ) প্রভাবে সর্দি, কাশি, কফ, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের আলসার, ক্যানসার, এমনকি টিনি এয়ারস্যাকের মাধ্যমে ব্লাডস্টিমে প্রবেশ করে কিডনি ডেমেজ, হার্ট ডিজঅর্ডার বা হার্ট ফেইল্যুর ইত্যাদি রোগ বা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। তাই ধুলাবালির রাস্তায় কিংবা ধুলাবালি ও ধোঁয়ার কাজে আমাদের মাস্ক পরা উচিত। তাছাড়া পোলেন গ্রেইন, মোল্ডস, ফাংগাল হাইফা, অ্যাসবেটস, ফিউমস, পেট ড্যানডার, শীতকালে মিস্ট এন্ড ফগ, গার্বেজের রাফ অডর ইত্যাদি থেকে মাস্ক ব্যবহারকারীকে রক্ষা করে।

মাস্ক ব্রিফিং এর মধ্যবর্তী সময়ে যোগ দেন বারসিকের এগ্রিকালচার সাপোর্ট অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জিল্লুর রহমান। কৃষিবিদ রহমান বলেন, কৃষিক্ষেত্রে কৃষকের স্বাস্থ্যরক্ষায় মাস্ক বিশেষ ভূমিকা রাখবে। চাষিরা ফসলে কীটনাশক স্প্রে করার সময় তাদের স্বাস্থ্যরক্ষাকারী উপকরণ (পিপিই- পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকয়েপমেন্ট) সম্পর্কে তেমন সচেতন নয়। তাছাড়া চাষীরা সবসময়ই ধুলাবালিজনিত কাজে ব্যস্ত থাকেন। শস্য কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই, বাছাই এ সকল কাজে প্রচুর ধুলাবালি উৎপন্ন হয়। তাই চাষীদের স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলতে মাস্ক অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কাজে আসবে।

মাস্ক ব্রিফিং শেষে বারসিকের ম্যানেজার বিমল রায় মাস্ক সচেতনতা বিষয়ে মাস্ক ফাউন্ডেশনের প্রচারণায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে মাস্ক ফাউন্ডেশনকে সকল প্রকার সহযোগীতার আশ্বাস দেন।

পরিশেষে ‘সাপ্তাহিক সময়ের সংবাদ’ এর সম্পাদক ও প্রকাশক মাহবুব আলম জুয়েল বারসিকের ম্যানেজার বিমল রায়কে মাস্ক ফাউন্ডেশনের লোগো উপহার দেন।

Leave a Comment